ভাসানচর নোয়াখালীর, নোয়াখালীরই থাকবে: হান্নান মাসউদ
- আপডেট সময় ০৪:৪১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৭১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, আমাদের অর্থ-সম্পদ দিয়ে গড়ে ওঠা হাতিয়ার ভাসানচর নোয়াখালীর এবং এটি নোয়াখালীরই থাকবে। এজন্য যতদুর যেতে হয় আমরা যাবো ইনশাআল্লাহ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত কারিগরি কমিটি ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে প্রতিবেদন দেওয়ার খবরে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে আবদুল হান্নান মাসউদ ডিজিটাল নোয়াখালীকে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাসানচর দ্বীপটি নোয়াখালীর। পরে সেখানে নোয়াখালীর তথা হাতিয়া উপজেলার অর্থ-সম্পদ এবং প্রচুর বরাদ্দ ব্যয় করে ভাসানচরকে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে নোয়াখালী বনবিভাগ বনায়ন করে দ্বীপকে রক্ষা করেছে। এখন কেউ এসে দ্বীপের দাবিদার হয়ে যাবে তা হতে পারে না।
হান্নান মাসউদ বলেন, সরকার যদি কোনো কারণে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে এটি সন্দ্বীপের অংশে দিতে চায় তাহলে নোয়াখালীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে তার পরই নিতে পারবে। অন্যথায় আমরা কোনোভাবেই আমাদের এ দ্বীপ সন্দ্বীপকে নিতে দেবো না।
এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন দিলেই এটি সন্দ্বীপের হয়ে যায়নি। এ নিয়ে আমরা আদালতের ধারস্থ হবো। আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া সরকার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারবে না। আমাদের মাটি আমাদেরই থাকবে ইনশাআল্লাহ।
এরআগে ‘ভাসানচরের ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপের অন্তর্গত’ ভূমি মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সীমানা নিয়ে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর হাতিয়াবাসীর মধ্যে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলা অবস্থায় এমন খবরে নোয়াখালীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬০-এর দশকে ভয়াবহ নদীভাঙনে হাতিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সাহেবানীর চরসহ একাধিক চর পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই বাস্তবতায় বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা ভাসানচরকে হাতিয়ার স্বাভাবিক ভৌগোলিক সম্প্রসারণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
২০১০ সালে ভাসানচর দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের পর দ্বীপটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। ওই বছরই সরকারি জরিপের মাধ্যমে ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তারও আগে, ২০০২–২০০৩ সালে হাতিয়া উপজেলার অধীন বন বিভাগ সেখানে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ রাষ্ট্রীয় সব ধরনের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নোয়াখালীর মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যমান গেজেট ও প্রশাসনিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ভাসানচরকে সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে হাতিয়াসহ নোয়াখালীবাসী জেলায় এবং রাজধানীতে ‘ভাসানচর রক্ষা আন্দোলন’ অব্যাহত রেখেছে।

















