শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তার বললেন টিউমার নেই

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে মিলেনিয়াম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের কাছে রোগীকে ভুল অস্ত্রোপচারের দায়ে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। গত সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী মো. রাছেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জসিম উদ্দিনের পক্ষে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইব্রাহিম ও চিকিৎসক মো. নুর আলম মহিমের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে নোটিশ পাঠান।

অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না জানান, ওই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন কমলনগর উপজেলার মধ্য চরমার্টিন এলাকার মো. এরশাদ। তিনি এখন পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় রয়েছেন। এরশাদের ভাই জসিম উদ্দিনের পক্ষে ২০ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোটিশে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট মো. এরশাদ (২৫) অসুস্থ হলে তাকে লক্ষ্মীপুর মিলেনিয়াম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. নুর আলম মহিম পরীক্ষা শেষে বলেন, তার ডান হাতে টিউমার হয়েছে। দ্রুত অপারেশন করতে হবে। রাত ৮টায় ডাক্তার এরশাদের অপারেশন করেন। অপারেশনের পরে ডাক্তার বলেন, ‘যে রোগের জন্য অপারেশন করা হয়েছে, এরশাদের সেই রোগ হয়নি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার।’

মিলেনিয়াম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট সার্জন ডা. নুর আলম মহিমের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে এরশাদ হোসেনের অস্ত্রোপচার করার চুক্তি হয়। অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর হাতে কোনো ধরনের টিউমার মেলেনি বলে স্বজনদের জানান সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. নুর আলম মহিম।

এ ব্যাপারে ডা. নুর আলম মহিম বলেন, টেস্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি চুক্তির ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করেছেন। তার অস্ত্রোপচারে কোনো ভুল ছিল না।

এদিকে টেস্ট রিপোর্ট দেওয়া প্রতিষ্ঠান আল আমিন প্যাথলজির স্বত্বাধিকারী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, টেস্ট স্যাম্পল তারা ঢাকার আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেসে পাঠিয়েছেন। এই হাসপাতালের রিপোর্ট তারা রোগীকে দিয়েছেন। কোনো ভুল থাকলে তার দায় আনোয়ারা মেডিকেলের হবে। তাদের কোনো দায় নেই।

লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফ্‌ফার জানান, তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তদন্তে সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত লিখুন :

এ জাতীয় আরো খবর..

আপনি কি খুঁজছেন?

পুরোনো মাসের সংবাদ

© All rights reserved © 2019 Digital Noakhali
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardnoakha4