শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে ৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় গত সপ্তাহে অস্বাভাবিক জোয়ারে ধসে গেছে লক্ষ্মীপুরের অনেক সেতু ও কালভার্ট। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭০ কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা সড়ক। বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তীররক্ষার বেড়িবাঁধ না থাকায় গত ২১-২৫ আগস্ট মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুর সদরের চর রমণীমোহন, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতির ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ৭০ কিলোমিটার সড়ক প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। কাঁচা সড়কগুলো ভেঙে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাকা সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেতুর দুই পাশের মাটি সরে দেখা দিয়েছে ফাটল।

রামগতির বড়খেরি সড়ক, রামগতি-চরগোসাই সড়ক, চর সেকান্দর থেকে বাংলাবাজার সড়ক, মুন্সিরহাট থেকে ছুবিরহাট সড়ক, বালুরচর জনতা বাজার সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কমলনগরের তোরাপগঞ্জ-মতিরহাট সড়ক, নবীগঞ্জ, হাজীরহাট সড়ক এবং নাছিরগঞ্জ চরলরেঞ্চ বাজার সড়কে ধসে গেছে বেশ কয়েকটি সেতু-কালভার্ট।

স্থানীয়রা জানান, স্মরণকালের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমণীমোহন ও রামগতির চরগাজী এলাকায় দুটি বেড়িবাঁধ মেরামত না হওয়ায় জোয়ারের পানি ঢুকছে লোকালয়ে। কমলনগরের তোরাপগঞ্জ-মতিরহাট সড়কের ১০০ মিটার ভেঙে যাওয়া অংশও মেরামত হয়নি।

সদর উপজেলার চর রমণীমোহন এলাকার পল্লী চিকিৎসক মাইনুদ্দিন মিলন জানান, চর রমণীমোহন ইউনিয়নে বাত্তিরখাল এলাকার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জোয়ারের প্লাবনে দুই হাজার পরিবার ক্ষতির শিকার হয়েছে। তার ঘেরের ১৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

কমলনগরের কালকিনির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিক চৌধুরী বলেন, অতি জোয়ারে কমলনগরের মতিরহাট বাজারের পূর্ব পাশ থেকে মতিরহাট-তোরাপগঞ্জ রাস্তার ছয়টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। মতিরহাট বাজার, মতিরহাট হাই স্কুল, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাতব্বরহাট, নবীগঞ্জ, বলিরপুল, হাজীমার্কেট, মিয়া মার্কেট, কালকিনি এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে মতিরহাট বাজারের বাঁধটিও। এ ছাড়া রায়পুরের ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. ইউছুফ ছৈয়াল জানান, তার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উঠতি আউশ, আমন বীজতলার।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অতি দরিদ্রদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও বলেন, মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জেয়ার এবং অতিবৃষ্টিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ৪টি ওয়ার্ডের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দরিদ্রদের মধ্যে ২ দফায় ৩০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম রশিদ আহম্মদ জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে জেলার সড়ক ও সেতু খাতে ৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব দ্রুত মেরামত করা হবে।

মতামত লিখুন :

এ জাতীয় আরো খবর..

আপনি কি খুঁজছেন?

পুরোনো মাসের সংবাদ

© All rights reserved © 2019 Digital Noakhali
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardnoakha4