বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কোম্পানীগঞ্জের ‘মুছাপুর ক্লোজারে’ ভিড়

কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় পর্যটন কেন্দ্র ‘মুছাপুর ক্লোজার’-এ ঈদুল আযহার পর থেকে গত কয়েকদিন হাজার হাজার মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যুবক-যুবতী, নর-নারী, শিশু জড় হচ্ছেন সেখানে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা ট্রাকে মাইক লাগিয়ে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে, উচ্চস্বরে গান ও খোলা ট্রাকে নেচে নেচে উঠতি বয়সের যুব ও তরুণরা যাচ্ছে মুছাপুর ক্লোজারে। এছাড়া শত শত সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার হাঁকিয়ে অনেকে যাচ্ছে সেখানে। রাজনৈতিক বলয়ের যুব ও তরুণরা একসাথে ১৫-২০টি মোটর সাইকেলে ৩-৪ জন করে চড়ে হৈ-চৈ করে দলে দলে যাচ্ছে মুছাপুর ক্লোজারে। সূর্যোদয় থেকে গভীর রাত অবধি এ অবস্থা চলতে থাকে বলে স্থানীয়রা জানায়। এরা কেউই স্বাস্থ্য বিধি মানছে না।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২৯৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিদিন আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ আসছে এবং এর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ৪ দিনে ১২২ জনের করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য কর্মী, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংবাদিকসহ কেউই আর বাদ থাকছেন না। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মুছাপুর ক্লোজারে এ ধরনের জনসমাগম এখানকার সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। সকলে আছে এক অজানা আতঙ্কে।

স্থানীয় চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের সমাগম সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বেআইনি। করোনা বিষয়ে আইনের প্রয়োগ থাকলে এ অবস্থা হতো না। এ ধরনের জনসমাগম অব্যাহত থাকলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার বা এর মহামারি আকার ধারণ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সুতরাং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সকলকে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন জানান, মুছাপুর ক্লোজারে আসা লোকজন কেউই কোনো স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ দিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না এধরনের জনসমাগম।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম জানান, মুছাপুর ক্লোজারে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে যে সমাগম হচ্ছে, এতে করে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়বে। এখনই এ ধরনের সমাগম নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

মতামত লিখুন :

এ জাতীয় আরো খবর..

আপনি কি খুঁজছেন?

পুরোনো মাসের সংবাদ

© All rights reserved © 2019 Digital Noakhali
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardnoakha4