শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের সবাইকে হারানো ফয়সাল সাক্ষাৎ চান প্রধানমন্ত্রীর

ওয়াসিম এমদাদ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
সেদিনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের কয়েকজন। ছবি: ডিজিটাল নোয়াখালী

সে’মানুষ মরণশীল’ -একথা চিরন্তন সত্য। কিন্তু মাঝে মাঝে সত্যটা মেনে নেয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তার চেয়েও বেশি কঠিন পরিবারের আপন মানুষদের হারিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা। কিন্তু একজন মানুষ যখন তার পরিবারের সকল সদস্যকে একসাথে হারায়, তখন তার পক্ষে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা অনর্থক এবং অসম্ভব বলে মনে হয়। তবুও মাতা-পিতা, ভাই-বোন ও মামা সহ সকলকে একসঙ্গে হারিয়ে ১৬টি বছর পার করছেন নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের নজরুল ইসলাম ফয়সাল। আজ সেই ভয়াবহ ২৭ ফেব্রুয়ারি। ২০০৪ সালের এই দিনে এক মারাত্মক ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তার পরিবারের ৬ সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে পৃথিবীতে একা হয়ে পড়েন।

সেই থেকে শুরু হয় তার জীবনের একাকী পথচলা। জীবন সংগ্রামে ১৫/১৬ বছরের একটি বালক দিশেহারা হয়ে পড়ে। তার অসহায় জীবনে অবিভাবক বলতে তেমন কেউই ছিলেন না। তবুও তিনি থেমে থাকেন নি। মৃত বাবার রেখে যাওয়া ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর বিজনেস সেন্টারটি তাকে দেয়া হয় ডেসটিনির পক্ষ থেকে। সে সময় তার পিতৃতুল্য ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমিন এবং একই কোম্পানির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসাইন এগিয়ে আসেন নজরুল ইসলাম ফয়সালের পাশে। ভালোই কাটছিলো তার জীবন। ধীরে ধীরে জীবনের আলো ফিরে পাচ্ছিলেন। তিনি পিতার অভাব ভুলতে শুরু করেছিলেন এবং নিয়মিত আয় রোজগারও করছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০১২ সালে ডেসটিনির উপর বিভিন্ন অভিযোগ চাপিয়ে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে আবার ঝড় আসে ফয়সালের জীবনে।

দুরবস্থার মধ্যেও ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাগণ ফয়সালের খবর রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ডেসটিনির পরিচালকরা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর দিনে দিনে তাদের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ফয়সাল পুনরায় বাধাগ্রস্ত হন। এমনকি তার আয় রোজগারও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিরা হাজতে থেকে থেকে বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এতে করে ফয়সালের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। আবারও দুর্বিষহ জীবনের দিকে ধাবিত হচ্ছে সে।

নজরুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, ‘এখন আর কেউ খবর রাখেনা আমার’! মাতাপিতা, ভাইবোন হারানোর পর অবিভাবক হিসেবে যাদের পেয়েছিলাম, তারাও এখন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমার খবর কে নেবে? তাই ফয়সাল তার মনের সকল আকুতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চান।

তিনি বলেন, আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীও অল্প বয়সে আপনজন হারিয়েছেন। তাই আপনজন হারানো মানুষের বেদনা তিনিই বুঝবেন। আমি আমাদের মাদার অব হিউম্যানিটি, বিশ্ব নন্দিত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি আমার সুন্দর জীবন ফিরে পেতে আপনার হস্তক্ষেপ চাই। একবার শুধু আপনার কাছে আমার মনের কথাগুলো খুলে বলতে চাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, এদেশে একমাত্র আপনিই আমার দুঃখ বুঝবেন।” তাই আমি আমার নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কথাগুলো বলতে চাই। সাংবাদিক ভাইবোনদের অনুরোধ করছি, আমার কথাগুলো মিডিয়ায় তুলে ধরে আমার পাশে থাকুন প্লিজ।এভাবেই নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম ফয়সাল। আর কোন মানুষ যেন এভাবে একসঙ্গে পরিবার পরিজন হারিয়ে অসহায় জীবন কাটাতে না হয়, আজকের এই দিনে এমনটাই প্রত্যাশা তার।

উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম ফয়সাল নিজের দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য বর্তমানে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহায়তায় নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং আর আমিন ফাউন্ডেশন ও নিরাপদ চিকিৎসা চাই নামের সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করছেন।

মতামত লিখুন :

এ জাতীয় আরো খবর..

আপনি কি খুঁজছেন?

পুরোনো মাসের সংবাদ

© All rights reserved © 2019 Digital Noakhali
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardnoakha4