বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

চৌধুরী বাজারে বাবার অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতে এক নারীর নানান অপকৌশল!

ইকবাল হোসেন মজনু, চৌধুরী বাজার থেকে ফিরে
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২০
প্রতীকী ছবি।

সহোদর ভাইবোনকে বঞ্চিত করে বাবার অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতে এক নারী নানান অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম সামছুন নাহার শাবানা (৩৫)। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের ইদ্রিছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৫নং চরদরবেশ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাজারের নুর বক্স দালাল বাড়ির আবদুল গোফরানের ছোট মেয়ে।

চরাঞ্চলের মহিষের পাল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর চৌধুরী বাজার সংলগ্ন ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের দালাল বাড়ির আবদুল গোফরান দীর্ঘ দিন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন। তার স্ত্রী রাজধনী বেগম, দুই ছেলে ওমর ফারুক জসিম ও আনোয়ার হোসেন টিপু এবং সাত মেয়ে সেতারা বেগম, আলেয়া বেগম আলো, টুনি, শিউলি, শিল্পী, কল্পনা ও সামছুন নাহার শাবানা রয়েছে। এরমধ্যে বড় মেয়ে সেতারা বেগম ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

অসুস্থ গোফরানের সম্পত্তির মধ্যে চৌধুরী বাজার সংলগ্ন দালাল বাড়িতে প্রায় দেড় একর, চৌধুরী বাজারে প্রায় ১৫ শতাংশ ও চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৬ একর সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীর সুবর্ণচরের স্বর্ণদ্বীপ, ভাষাণচর ও চরলক্ষ্মীতে আবদুল গোফরানের প্রায় সাত’শ মহিষ ও তিন’শ গরু রয়েছে। এই মহিষ ও গরুর দেখাশোনা করেন আবদুল গোফরানের বড়ছেলে ওমর ফারুক জসিম। এখন এই জসিমের সাথে হাত মিলিয়ে আবদুল গোফরানের ছোট মেয়ে শাবানা অন্য ভাইবোনদের বঞ্চিত করতে নানা অপকৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চরাঞ্চলের গরুর পাল।

খবর নিয়ে জানা গেছে, সামছুন নাহার শাবানাকে গত ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পেশকারহাট এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে ওমর ফারুক রিয়াদের কাছে বিয়ে দেয়। কিন্তু সেই থেকে আজ অবদি তিনি বাবার বাড়িতেই বেশির ভাগ সময় বসবাস করে আসছেন। এ সুবাধে তিনি অসুস্থ বাবার সহায় সম্পত্তি ও নগদ টাকা কুক্ষিগত করার অপকৌশল নেন। তিনি বড়ভাই ওমর ফারুক জসিমসহ চরের মহিষ গরু বিক্রি করে টাকা হাতানো শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে অসুস্থ বাবার অর্থ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আবদুল গোফরানের ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন টিপু প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধে জড়ান সামছুন নাহার শাবানা ও তার স্বামী ওমর ফারুক রিয়াদ। এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা গ্রাম্য শালিস বৈঠকও বসে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুছাপুর ইউনিয়নের সমাজপতি একরামুল হক, স্থানীয় মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীন চৌধুরীসহ স্থানীয় গন্যমান্যরা ইতোমধ্যে বহুবার এ নিয়ে সমঝোতার চেষ্টাও করেন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানায় সামছুন নাহার শাবানার দায়ের করা অভিযোগ।

গত ২৩/০১/২০২০ইং তারিখে সামছুন নাহার শাবানা নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এতে তিনি ভাই আনোয়ার হোসেন টিপু, বড়বোন আলোর ছেলে সানা উল্যাহ ডালিম ও বড়বোন লাইলী বেগম কল্পনাকে আসামি করেন। এতে শাবানা অভিযোগ করেন, সম্পত্তির লোভে আসামিরা তার মা রাজধনী বেগমকে শ্লীলতাহানী করে ও বাবাকে মারধর করেন। তাদেরকে বাঁচাতে গেলে আসামিরা তাকেও লোহার রড় ও কিরিচ দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

একই ঘটনায় শাবানার বড়বোনের ছেলে সানা উল্যাহ ডালিম বাদি হয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে তিনি সামছুন নাহার শাবানা, তার স্বামী ওমর ফারুক রিয়াদ, শাবানার শ্বশুর আবুল কাশেম, শাবানার বড়ভাই ওমর ফারুক জসিম, শাবানার মা রাজধনী বেগম ও বাবা আবদুল গোফরানকেও আসামি করেন। এতে ডালিম অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে আসার পর বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তিনি তিন লাখ টাকা ও দুই ভারি ওজনের স্বর্ণের হার নানা-নানীর কাছে জমা রাখেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে ওই টাকা ও স্বর্ণ চাইলেও শাবানা ও তার স্বামী রিয়াদের ইন্ধনে তা ফেরত দিচ্ছে না। এ নিয়ে ঘটনার দিন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামিরা তাকে মারধর করেন।

ফেনীর সোনাগাজী থানায় সানা উল্যাহ ডালিমের দায়ের করা অভিযোগ।

সামছুন নাহার শাবানার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী অফিসার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, অভিযোগের ঘটনাস্থল ফেনীর সোনাগাজী থানা এলাকায় হওয়ায় অভিযোগটির আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে। অন্যদিকে সানা উল্যাহ ডালিমের অভিযোগের ব্যাপারে ফেনীর সোনাগাজী থানার এসআই নোমান জানান, ঘটনার তদন্তে গিয়ে আসামিদের হাজির থাকতে বলা হলেও তারা এখনো হাজির হয়নি।

এ ব্যাপারে আবদুল গোফরানের ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন টিপু বলেন, আমার ছোটবোন সামছুন নাহার শাবানা ও তার স্বামী ওমর ফারুক রিয়াদ আমাকে বঞ্চিত করার জন্য বড়ভাই ওমর ফারুক জসিমকে হাত করে বাবার অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে। গত এক বছরে ৫০টি মহিষ বিক্রি করে ৩০-৩৫ লাখ টাকা এরা হাতিয়ে নিয়েছে। আমাকে কিছুই দেয়া হয়নি। এখনো প্রতিনিয়ত গরু মহিষ বিক্রি করে তারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করায় তারা এক জোট হয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। এদিকে মারামারির ঘটনায় আমি জড়িত না থাকলেও থানায় দায়ের করা অভিযোগে শাবানা আমাকে আসামী করেছে।

এ বিষয়ে শাবানার স্বামী ওমর ফারুক রিয়াদ নিজেকে এডভোকেট দাবি করে মোবাইল ফোনে বলেন, আমার শ্বশুর অসুস্থ থাকায় মাঝে মাঝে আমার স্ত্রী শাবানা ওই বাড়িতে যায়। তবে তাদের টাকা-পয়সা বা সম্পত্তির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শাবানার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি নাম্বার দিবেন বলেও আর দেননি। শাবানার দায়ের করা অভিযোগে দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আবদুল গোফরানের ছেলে ওমর ফারুক জসিম চরাঞ্চলে ও অন্যান্যরা অজ্ঞাতস্থানে অবস্থান করায় তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মতামত লিখুন :

এ জাতীয় আরো খবর..

আপনি কি খুঁজছেন?

পুরোনো মাসের সংবাদ

© All rights reserved © 2019 Digital Noakhali
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardnoakha4